বাংলা গল্পসল্প

"BanglaGolpoSolpo" is all about Bengali stories, Bengali Poems, Articles etc. 'বাংলা গল্পসল্প'র তরফ থেকে সকল পাঠকগণ, শ্রোতাগণ ও লেখকবন্ধুদের জানাই হার্দিক অভিনন্দন, ভালোবাসা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা। এই অনলাইন পাবলিশিং ওয়েবসাইটটির অনবদ্য প্রচেষ্টা স্বরূপ বিভিন্ন ধরনের বাংলা সাহিত্যের উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলা জগতের গর্বিত বাঙালীর সন্নিকটে নবাগত তরুণ প্রজন্মের সাহিত্যিকগণের আত্মপ্রকাশ করার নিতান্তই একটি প্রয়াসমাত্র ।

Powered By Blogger

Wikipedia

Search results

Pageviews

নিচের FOLLOW BUTTON টির দ্বারা আপনি ওয়েবসাইটটি FOLLOW করতে পারেন।

Sunday, 2 August 2026

১০৮ শিব মন্দির: বর্ধমানের অনন্য স্থাপত্য ও ভক্তিসাধনার মেলবন্ধন


১০৮ শিব মন্দির: 
বর্ধমানের অনন্য স্থাপত্য ও ভক্তিসাধনার মেলবন্ধন

ভূমিকা

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক শহর বর্ধমান। এই শহরের প্রতিটি কোণে লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গল্প। বর্ধমান শহরের কাছেই নবাবহাটে অবস্থিত ১০৮ শিব মন্দির (যাকে অনেকে 'নবাবহাট মন্দির সমষ্টি' বলেও চেনেন) এক অসামান্য স্থাপত্য নিদর্শন। ১৮৮৮ সালে বর্ধমানের মহারাজা তেজচন্দ্র বাহাদুর এই অনন্য মন্দির সমষ্টি নির্মাণ করিয়েছিলেন। ভারতে তো বটেই, সমগ্র বিশ্বেই এই ধরনের বৃত্তাকার ১০৮টি মন্দিরের স্থাপত্য সাজসজ্জা অত্যন্ত বিরল ও দৃষ্টিনন্দন। 

ইতিহাস ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট 

উনিশ শতকের শুরুতে বর্ধমান রাজপরিবার শিল্প, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় স্থাপত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। মহারাজা তেজচন্দ্র বাহাদুর তাঁর মা মহারানী বিশন কুমারীর ইচ্ছা অনুযায়ী এই বিশাল মন্দির সমষ্টি তৈরি করেন। প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে মহারানী মহামারী ও দুর্যোগ থেকে বর্ধমানবাসীকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এবং পরিবারের কল্যাণার্থে ১০৮টি শিবলিঙ্গ স্থাপনের শপথ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও দক্ষ কারিগরদের কঠোর পরিশ্রমে এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুচ্ছ গড়ে ওঠে।

স্থাপত্যশৈলী ও গঠনকাঠামো

১০৮ শিব মন্দিরের মূল আকর্ষণ হলো এর জ্যামিতিক নকশা এবং পরিকল্পনা।
বৃত্তাকার বিন্যাস: মন্দিরগুলো একটি বিশাল বৃত্তাকার পথ ঘেঁষে দুটি ধাপে তৈরি করা হয়েছে।
বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বৃত্ত: বাইরের দিকে রয়েছে ৭৪টি মন্দির এবং ভিতরের দিকে রয়েছে ৩৪টি মন্দির। সম্পূর্ণ মন্দির প্রাঙ্গণটি এমনভাবে সাজানো যে কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে চারপাশের মন্দিরগুলো দেখলে এক অপূর্ব অনুভূতি হয়।
আটচালা শৈলী: প্রতিটি মন্দির ঐতিহ্যবাহী রুচির "আটচালা" (At-chala) বাংলা স্থাপত্যরীতির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত।
শিবলিঙ্গের রঙ: এই মন্দিরের সবচেয়ে মজার এবং বিষ্ময়কর বিষয় হলো শিবলিঙ্গের রঙ। বাইরের বৃত্তের শিবলিঙ্গগুলোর রঙ সাদা (যা শান্তি ও জ্ঞানকে নির্দেশ করে) এবং ভেতরের বৃত্তের শিবলিঙ্গগুলোর রঙ কালো (যা ভৈরব বা রুদ্র রূপকে নির্দেশ করে)। 

পর্যটন ও ধর্মীয় গুরুত্ব

প্রতি বছর বিশেষ করে শিবরাত্রি এবং শ্রাবণ মাসে এখানে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। মহাশিবরাত্রির দিনে পুরো মন্দির চত্বর আলোকমালায় সাজানো হয় এবং মেলা বসে। শুধু পুণ্যার্থীই নয়, ঐতিহাসিক ও স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য এটি এক নিখুঁত গন্তব্য। সবুজ ঘাসের গালিচা আর সুসংগঠিত বাগান মন্দির চত্বরের সৌন্দর্য বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। 

কীভাবে পৌঁছাবেন?

বর্ধমান মূল শহর বা স্টেশন থেকে মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার দূরে নবাবহাটে এই মন্দিরটি অবস্থিত। বর্ধমান স্টেশন থেকে বাস, টোটো বা অটো ধরে সহজেই কয়েক মিনিটের মধ্যে এখানে পৌঁছানো যায়। 

No comments:

Post a Comment