Wikipedia
Search results
Pageviews
নিচের follow button টির দ্বারা আপনি এই ওয়েবসাইট টি follow করতে পারেন ।
Thursday, 6 August 2026
Home
/
প্রবন্ধ
/
হাজার বছর আগের বাংলা: জীবন, জীবিকা ও পল্লিসংস্কৃতি / 'বাংলা গল্পসল্প' নিবেদিত একখানা প্রবন্ধ।
হাজার বছর আগের বাংলা: জীবন, জীবিকা ও পল্লিসংস্কৃতি / 'বাংলা গল্পসল্প' নিবেদিত একখানা প্রবন্ধ।
হাজার বছর আগের বাংলা:
জীবন, জীবিকা ও পল্লিসংস্কৃতি
আজ থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ বছর আগে—অর্থাৎ একাদশ থেকে ষষ্ঠদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে—বাংলার রূপ আজকের আধুনিক সমাজ থেকে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পাল ও সেন রাজবংশের শাসনকাল থেকে শুরু করে সুলতানি আমলের শুরুর এই সময়টিতে বাংলার সমাজজীবনের মূল চালিকাশক্তি ছিল নদী, কৃষি এবং স্বাবলম্বী গ্রামব্যবস্থা। পলিমাটির সুজলা-সুফলা এই অঞ্চলে তখনকার মানুষের দিনযাপন, চাষাবাদ ও পেশাগত জীবন কেমন ছিল, তার এক বিস্তারিত তথ্যচিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
১. চাষাবাদ ও কৃষিব্যবস্থা
হাজার বছর আগের বাংলার অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে কৃষিভিত্তিক ছিল। নদীমাতৃক দেশ হওয়ার কারণে প্রাকৃতিকভাবেই জমি ছিল অত্যন্ত উর্বর।
প্রধান ফসল: ধান ছিল বাংলার মূল ফসল। প্রাচীন সাহিত্য ও নথিপত্রে 'শালিশাল' (আমন ধান), 'আউশ' এবং 'বোরো' ধানের উল্লেখ পাওয়া যায়। এ ছাড়া আখ, সরিষা, তিল, পান, সুপারি, কার্পাস তুলো এবং নানা জাতের ডাল প্রচুর পরিমাণে চাষ হতো।
সেচ ও প্রযুক্তি: কৃষকরা প্রধানত বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভর করতেন। তবে খরা মৌসুমে নদী, নালা, পুকুর ও দীঘি থেকে ডোঙা, সিঁচনি ও কাঠের চাকার সাহায্যে জমিতে জল সেচ দেওয়া হতো।
ভূমি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: জমি সাধারণত গ্রামের যৌথ মালিকানায় বা স্থানীয় সামন্তদের অধীনে থাকত। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে বন্যা ছিল কৃষকদের জীবনের নিত্যসঙ্গী।
২. মানুষের জীবিকা ও পেশাগত বৈচিত্র্য
কৃষিকাজের পাশাপাশি সমাজে নানা ধরণের পেশাজীবী মানুষ ছিলেন। গ্রামগুলো ছিল মূলত আত্মনির্ভরশীল; অর্থাৎ জীবনের প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিস গ্রামেই তৈরি হতো।
তাঁত ও বস্তশিল্প: বাংলার তাঁতিদের বুননশিল্পের খ্যাতি সে যুগেই বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল। মিহি সুতির কাপড়, খাস ও সূক্ষ্ম মসলিনের আদি রূপ এই সময়েই তৈরি হতো।
মৃৎশিল্প ও ধাতুগালানো: কুমোররা গৃহস্থালির হাঁড়ি-কুড়ি, কলসি ও দেব-দেবীর টেরাকোটার মূর্তি তৈরি করতেন। আর কামাররা তৈরি করতেন লাঙলের ফাল, কাস্তে, খাঁড়া ও দা।
গাছুয়া ও শাঁখারি: খেজুর ও তাল গাছ থেকে রস সংগ্রহকারী 'গাছুয়া' এবং শাঁখা প্রস্তুতকারী 'শাঁখারি' সম্প্রদায়ের বেশ প্রভাব ছিল। সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় (হিজলী ও কাঁথি অঞ্চল) 'মালঙ্গী' সম্প্রদায় নোনা জল ফুটিয়ে খাঁটি লবণ তৈরি করত।
ব্যবসা-বাণিজ্য: তাম্রলিপ্ত (তমলুক) ও সপ্তগ্রাম (হুগলী) ছিল প্রধান নদী বন্দর। এখান থেকে ডিঙি ও বড় বড় 'সপ্তডিঙা মধুকর' নৌকায় করে সুতি কাপড়, চাল, প্রবাল, সুপারি ও মশলা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হতো।
৩. খাদ্যভ্যাস ও পোশাক-পরিচ্ছদ
সেকালের সাধারণ বঙ্গবাসীর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাদামাটা ও প্রকৃতির কাছাকাছি।
খাবার-দাবার: 'মঙ্গলকাব্য' ও প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থ 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' থেকে জানা যায়, সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, গালানো অড়হর বা মুগ ডাল, ঘি, নালা বা নালিতা (পাট) শাক এবং নানা ধরনের নদীর মাছ (বিশেষ করে ইলিশ ও রুই)। খাঁটি দুধ, দই ও পায়েস ছিল অত্যন্ত প্রিয় খাবার।
পোশাক: সাধারণ পুরুষরা খাটো ধুতি বা কোঁচা পরতেন, গায়ে থাকত চাদর বা ওড়না। নারীরা সুতি শাড়ি পরতেন। সোনা ও রূপার গয়নার চল ছিল বিত্তশালীদের মধ্যে; সাধারণ নারীরা শাঁখা, কাচের চুড়ি ও কাঠের অলংকার ব্যবহার করতেন।
৪. বাসস্থান ও গ্রাম্য জীবনযাপন
বাড়িঘরের গঠন: সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি তৈরি হতো বাঁশ, খড়, কাদা মাটি ও গোলপাতা দিয়ে। দোচালা ও চারচালা খড়ের চালের যে নকশা আমরা দেখি, তার উৎপত্তি এই যুগেই।
সামাজিক প্রথা ও বিনোদন: সামাজিক জীবন পরিচালিত হতো গ্রাম পঞ্চায়েত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অবসরে মানুষ গাজনের গান, মনসামঙ্গল ও চণ্ডীমঙ্গলের পালাগান শুনতেন। মল্লযুদ্ধ, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগের লড়াই এবং কড়ি দিয়ে দাবা বা পাশা খেলা ছিল প্রধান বিনোদন।
উপসংহার
রাজনৈতিকভাবে সে যুগে বহু রাজবংশের উত্থান-পতন ঘটেছে, কিন্তু বাংলার সাধারণ কৃষক, তাঁতি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা নিজের প্রাকৃতিক ছন্দেই এগিয়ে চলেছে। রূপসী বাংলার নদী, উর্বর মাটি আর কঠোর পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল আজকের বাঙালি সংস্কৃতির সুদৃঢ় ভিত্তি।
লেখক - আলীম বাবু
About বাংলা গল্পসল্প
Templatesyard is a blogger resources site is a provider of high quality blogger template with premium looking layout and robust design. The main mission of templatesyard is to provide the best quality blogger templates.
Related Posts:
প্রবন্ধ
Labels: photos
প্রবন্ধ
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment