Wikipedia
Search results
Pageviews
নিচের follow button টির দ্বারা আপনি এই ওয়েবসাইট টি follow করতে পারেন ।
Thursday, 6 August 2026
Home
/
প্রবন্ধ
/
কালান্তরের বাংলা: হাজার বছরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের কথা / 'বাংলা গল্পসল্প' নিবেদিত একখানা প্রবন্ধ।
কালান্তরের বাংলা: হাজার বছরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের কথা / 'বাংলা গল্পসল্প' নিবেদিত একখানা প্রবন্ধ।
কালান্তরের বাংলা:
হাজার বছরের হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের কথা
বাংলার ইতিহাস মানেই শুধু পাল-সেন রাজবংশ বা ব্রিটিশ আমলের গল্প নয়। এর বাইরেও এই পলিমাটির গভীরে লুকিয়ে রয়েছে বহু অজানা ও অবিশ্বাস্য ঘটনা। আজ থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ বছর আগের বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক রূপ কেমন ছিল, তা আধুনিক ইতিহাসে অনেকটাই আড়ালে রয়ে গেছে।
রাঢ় বাংলার রহস্যময় 'মাজি' ও সুবর্ণরেখার জলদস্যু
হাজার বছর আগের দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা (বিশেষ করে বর্তমান মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার রাঢ় অঞ্চল) আজকের মতো শান্ত ছিল না। সে যুগে বঙ্গোপসাগর থেকে সুবর্ণরেখা ও রূপনারায়ণ নদ ধরে বড় বড় সওদাগরী জাহাজ আসত। এই নদীপথে রাজত্ব করত এক বিশেষ জলদস্যু সম্প্রদায়, যাদের স্থানীয় ভাষায় বলা হতো 'মাজি'।
এরা কিন্তু সাধারণ ডাকাত ছিল না। তৎকালীন পাল ও তাম্রলিপ্তের বণিকদের সাথে এদের একটি অলিখিত চুক্তি ছিল। নদীর বিপজ্জনক মোহনাগুলোতে জাহাজ নিরাপদে নিয়ে যাওয়ার বদলে তারা পারিশ্রমিক পেত। কিন্তু কোনো বিদেশি শক্তি বা বহিরাগত আক্রমণকারী নদীপথে এলে, এই মাজিরাই নৌ-গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে শত্রুদের ধুলিসাৎ করে দিত। তখনকার তাম্রলিপ্ত বন্দরের সুরক্ষায় এই মাজি সম্প্রদায়ের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
জঙ্গলমহলের স্বাধীন শবর রাজ্য ও লোহাগড়
প্রায় ৮০০ বছর আগে, সেন বংশের পতনের পর যখন বাংলায় চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা (মাৎস্যন্যায পরবর্তী প্রভাব), তখন ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের গহীন অরণ্যে গড়ে উঠেছিল এক স্বশাসিত শবর ও সাঁওতাল রাজ্য। এদের মূল কেন্দ্র ছিল 'লোহাগড়' নামের এক দুর্গম মাটির দুর্গ।
ঐতিহাসিক দলিল অনুসারে, এরা কোনো কেন্দ্রীয় রাজাকে খাজনা দিত না। পরিবর্তে, বনের ঔষধি গাছপালা, মধু ও তামা বিনিময় করে রাজাদের সাথে বাণিজ্য করত। এই শবর রাজারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী তীর-ধনুক ও বিষাক্ত অস্ত্রের শক্তিতে বিশাল বিশাল বাহিনীকে আটকে দিয়েছিল। আজও ঝাড়গ্রামের অরণ্যে এই প্রাচীন লোহাগড়ের ধ্বংসাবশেষ মাটির নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।
মধ্যযুগের 'লবণ বিপ্লব' ও মেদিনীপুরের লোনাজমি
আজ থেকে ৬০০ বছর আগে (সুলতানি আমলে), বাংলার অর্থনীতি শুধু ধান বা রেশমের ওপর নির্ভর ছিল না। দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চল ছিল সমগ্র উপমহাদেশের বৃহত্তম 'লবণ উৎপাদন কেন্দ্র'।
তৎকালীন হিজলী (বর্তমান কাঁথি ও তমলুক এলাকা) রাজত্বে এক বিশেষ শ্রেণীর কারিগর বাস করত, যাদের বলা হতো 'মালঙ্গী'। তারা সমুদ্রের লোনা জল ফুটিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে খাঁটি সাদা লবণ তৈরি করত। এই লবণ নৌকা বোঝাই হয়ে নেপাল, তিব্বত এবং মায়ানমারে রপ্তানি হতো। সুলতানি আমলে এই লবণের ওপর কর বসানো নিয়ে মালঙ্গীরা বাংলার অন্যতম প্রথম সংগঠিত অর্থনৈতিক ধর্মঘট করেছিল, যা ইতিহাসে খুব কম আলোচিত।
বর্ধমান ও রাঢ়ের 'গো-মঙ্গল' উৎসব: সামন্তযুগের লোকসংস্কৃতি
৭০০ বছর আগের রাঢ় বাংলার (বিশেষ করে বর্ধমান, বীরভূম ও হুগলী) গ্রামীণ সমাজে এক অদ্ভুত উৎসব প্রচলিত ছিল, যাকে বলা হতো 'গো-মঙ্গল'। বর্তমানের কাাঁড়াত বা সোহরাই উৎসবের আদি রূপ ছিল এটি।
সে যুগে পশুপালনই ছিল কৃষিজীবী মানুষের প্রধান সম্বল। তাই বছরে একবার বনের হিংস্র পশুর হাত থেকে গবাদিপশুকে রক্ষা করতে গৃহস্থরা রাত্রে ধানক্ষেতের মাঝে প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশেষ নাচ-গানের আয়োজন করত। এই উৎসবের মাধ্যমেই রাঢ় বাংলার লোকসংগীতের আদি সুরগুলো—যেমন ভাদু ও টুসু-র আদি রূপের জন্ম হয়েছিল।
ইতিহাসের শিক্ষা
বাংলার ইতিহাস কোনো বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়; আমাদের নদী, জঙ্গল আর মাটির পদচিহ্নেই লেখা আছে হাজার বছরের অতীত। ৫০০ থেকে ১০০০ বছর আগের এই অজানা ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, বাংলা সবসময়ই এক স্বাধীনচেতা, স্বাবলম্বী এবং সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল।
লেখক - আলীম বাবু
About বাংলা গল্পসল্প
Templatesyard is a blogger resources site is a provider of high quality blogger template with premium looking layout and robust design. The main mission of templatesyard is to provide the best quality blogger templates.
Related Posts:
প্রবন্ধ
Labels: photos
প্রবন্ধ
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment