বাংলা গল্পসল্প

"BanglaGolpoSolpo" is all about Bengali stories, Bengali Poems, Articles etc. 'বাংলা গল্পসল্প'র তরফ থেকে সকল পাঠকগণ, শ্রোতাগণ ও লেখকবন্ধুদের জানাই হার্দিক অভিনন্দন, ভালোবাসা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা। এই অনলাইন পাবলিশিং ওয়েবসাইটটির অনবদ্য প্রচেষ্টা স্বরূপ বিভিন্ন ধরনের বাংলা সাহিত্যের উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলা জগতের গর্বিত বাঙালীর সন্নিকটে নবাগত তরুণ প্রজন্মের সাহিত্যিকগণের আত্মপ্রকাশ করার নিতান্তই একটি প্রয়াসমাত্র ।

Wikipedia

Search results

Pageviews

নিচের follow button টির দ্বারা আপনি এই ওয়েবসাইট টি follow করতে পারেন ।

Wednesday, 12 August 2026

মহাবনের ছায়া ও নিয়তির দাঁড়িপাল্লা / 'বাংলা গল্পসল্প' নিবেদিত একখানা রোমাঞ্চকর গল্প।

মহাবনের ছায়া ও নিয়তির দাঁড়িপাল্লা


এক: বিষাক্ত সিংহাসন

মহাবনের দক্ষিণ সীমানাটি একসময় পরিচিত ছিল জীবনের প্রাচুর্যের জন্য। সেখানে আকাশছোঁয়া পাইন আর শাল গাছের পাতার ফাঁক গলে যখন বিকালের মিঠে রোদ মাটির শ্যাওলায় এসে পড়ত, মনে হতো বনটি যেন এক রূপকথা। শান্ত নদীর অববাহিকায় বুনো হরিণের দল জল খেত, ডালপালায় খেলা করত হাজারো রঙের পাখি, আর কচি ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকত খরগোশের ছানারা। 

কিন্তু এই শান্ত সুনিবিড় পরিবেশের ওপর কালছায়া ফেলেছিল ‘ধূসর সিংহাসন’। মহাবনের সবচেয়ে উঁচু পাথুরে টিলা, যেখানে জন্ম নিয়েছিল এক নির্মম কর্তৃত্ব।
সেই টিলার চূড়ায় বসে রাজত্ব করত রুফাস—এক বিশালদেহী, রক্তচক্ষু সিংহ। রুফাসের শরীরের প্রতিটি পেশি ছিল বুনো শক্তির প্রতীক, আর তার থাবার এক আঘাতেই ভেঙে যেত যেকোনো বড় পশুর মেরুদণ্ড। কিন্তু রুফাসের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার শক্তি ছিল না; তার বড় পরিচয় ছিল দুর্বলদের প্রতি তার অপরিসীম ঘৃণা ও তাদের দমিত রাখার অপ্রাকৃতিক নেশা। 

রুফাস একা ছিল না। তার অধীনে ছিল একদল হিংস্র শিকারি সিংহ। তারা কেবল নিজের ক্ষিদে মেটানোর জন্য শিকার করত না। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী একটা হিংস্র পশুও পেট ভরলে শিকার করা ছেড়ে দেয়। কিন্তু রুফাসের দল ক্ষিদে মিটে যাওয়ার পরও বনের ছোট ও দুর্বল প্রাণীদের তাড়া করত কেবল আনন্দ পাওয়ার জন্য।
কোনো তরুণ হরিণকে তাড়া করে পাহাড়ি ক্লিফের প্রান্তে নিয়ে গিয়ে আতঙ্কে কাঁপতে দেখা, নদীর ঠাণ্ডা স্রোতে জলপায়ীদের জোর করে ডুবিয়ে রাখা কিংবা ডাহুক পাখির বাসা ভেঙে ছানাগুলোকে এক এক করে নিচে ফেলে দেওয়া—এগুলো ছিল ধূসর সিংহাসনের দৈনন্দিন বিনোদন। 

রুফাস বিশ্বাস করত, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে দুটি মাত্র শ্রেণি আছে—একশ্রেণি হুকুম দেবে, আর অন্য শ্রেণি সেই হুকুম মেনে ভয়ে কেঁপে মরবে। সে বলত, "দুর্বলদের জন্মই হয়েছে সবলদের পায়ের তলায় পিষে যাওয়ার জন্য। ওদের ওপর ভয় আর ক্ষমতা না দেখালে ওরা নিজেদের সীমানা ভুলে যাবে। এটাই এই বনের শাশ্বত নিয়ম।" 

বনের ছোট ছোট প্রাণীরা আতঙ্কে দিন কাটাত। বাতাসে কোনো পাতার শব্দ হলেও তাদের বুক কেঁপে উঠত। রুফাস প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রগতির চাকাটিকে থমকে দিয়েছিল। দুর্বলদের মনে হতো, এই অত্যাচারে কোনোদিন দাড়ি পড়বে না, কারণ রুফাসের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কেউ এই বনে নেই। 

দুই: কান্নার শব্দ ও প্রজ্ঞার আলো 

নদীর ধারের ঘন বাঁশঝাড়ের পাশে বাস করত কায়া—এক তরুণ হরিণ। কায়ার মেধা ছিল তীক্ষ্ণ, কিন্তু শরীরের শক্তিতে সে ছিল আর পাঁচটা হরিণের মতোই দুর্বল।
এক রোদঝলমলে সকালে কায়ার ছোট বোন, যে তখনও পুরোপুরি বনের বিপদ বুঝতে শিখেনি, নদীর চড়ায় কচি ঘাস খাচ্ছিল। হঠাৎ করেই রুফাসের দুজন শাগরেদ সেখানে হাজির হয়। সিংহ দুটির কোনো ক্ষিদে ছিল না; তারা একটু আগেই এক সুবিশাল বুনো মহিষ শিকার করে পেট পুজো করেছে। কিন্তু হরিণছানাটিকে দেখে তাদের মধ্যে জঘন্য কৌতুক জেগে উঠল। 

তারা ছানাটিকে তাড়া করতে শুরু করল। ছোট হরিণটি প্রাণের ভয়ে দৌড়াতে গিয়ে এক সময় পাহাড়ি গিরিখাতের মুখে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। পেছনে দুই বিশাল রক্তচক্ষু শিকারি, আর সামনে শত ফুট গভীর খাদ। ছানাটি ভয়ে ব্যাকুল হয়ে কাঁপছিল আর করুণ স্বরে ডাকছিল। সিংহ দুটি দূর থেকে হেসে ওঠে এবং এক পা এক পা করে এগোতে থাকে। আতঙ্কের চরমসীমায় পৌঁছে ছোট হরিণছানাটির পা পিছলে যায়। এক বিকট শব্দে সে হাজার ফুট নিচে পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে। 

কায়া দূর থেকে সমস্ত দৃশ্য দেখেছিল। বোনকে হারানোর শোক আর অন্যায়ের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে সে ছুটে গেল বনের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ প্রাণী 'সিরু'-র কাছে।
সিরু ছিল এক প্রবীণ বুনো পেঁচা। তার সাদা ডানা দুটো সময়ের ভারে ধসর হয়ে এসেছিল, কিন্তু তার দুটো চোখ ছিল যেন রাতের আকাশের মতো গভীর ও প্রজ্ঞাময়। বনের কোনো প্রাণীর বিপদে পরম পরামর্শদাতা ছিল এই সিরু। 

কায়া সিরুর ডালের নিচে গিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, "সিরু! এই অন্যায় আর কতদিন? আমার ছোট বোনটা ওদের কোনো ক্ষতি করেনি। ওদের পেট ভরা ছিল, তাও কেবল আনন্দের জন্য ওরা আমার বোনটাকে মেরে ফেলল! কেন আমরা এত দুর্বল? কেন ঈশ্বর বা প্রকৃতি আমাদের এত অসহায় করে তৈরি করেছেন যে সবলরা সবসময় আমাদের পিষে মারবে?" 

সিরু ধীর গতিতে তার বড় বড় চোখ দুটি মেলে কায়ার দিকে তাকাল। তার কণ্ঠস্বরে ছিল এক অদ্ভুত শান্ত অথচ গভীর দৃঢ়তা।
"কায়া," সিরু মৃদু গলায় বলল, "তুমি যা দেখছ, তা প্রকৃতির নিয়ম নয়। তা হলো ক্ষমতার অন্ধ অহংকার। শোনো কায়া, মানুষ হোক কিংবা পশুপাখি—যেকোনো জীব যখন নিজের গায়ের জোরকে চূড়ান্ত শক্তি ভেবে অন্যকে অনাবশ্যক নিপীড়ন করতে শুরু করে, সে আসলে প্রকৃতির শাশ্বত নিয়মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।"

"কিন্তু সেই যুদ্ধে জিতেছে তো রুফাসই!" কায়া চিৎকার করে উঠল।

"না, কায়া," সিরু ডানা ঝাপটে বলল। "প্রকৃতির একটা নিজস্ব ভারসাম্য বা দাঁড়িপাল্লা আছে। সবল যখন অপ্রাকৃতিকভাবে দুর্বলকে দমিত রাখে, সে ভুলে যায় যে তার নিজস্ব অস্তিত্বও ওই দুর্বলের ওপরই নির্ভর করছে। শক্তির অহংকার হলো বিষের মতো, যা ধীরে ধীরে ধারণকারীকেই ধ্বংস করে। প্রকৃতি বড় নীরবে তার হিসেব কষে। নিয়তির নিয়মকে দীর্ঘকাল কোনো রক্তচক্ষু অমান্য করতে পারে না। অপেক্ষা করো, কায়া। প্রগতির নিয়ম ভাঙার মাশুল রুফাসকে দিতেই হবে।" 

তিন: প্রকৃতির প্রতিশোধ ও স্তব্ধতা

সিরুর কথাগুলো সেদিন কায়ার মনে পুরোপুরি আশার আলো জ্বালাতে পারেনি। কিন্তু প্রকৃতির নীরব ঘড়ি কিন্তু চলতে শুরু করেছিল।
পরের বছর মহাবনে এমন এক ঋতু এল, যা বনের প্রবীণতম বটগাছটিও কখনো দেখেনি। আকাশে মেঘের এক কণাও দেখা গেল না। গ্রীষ্মের প্রখর রোদে নদীর জল শুকিয়ে কাঁচের মতো পাতলা সুতোয় পরিণত হলো, তারপর একদিন তাও অদৃশ্য হয়ে গেল। সবুজ বনভূমি রূপ নিল এক হলুদ, শুষ্ক মরুভূমিতে। কচি পাতাগুলো শুকিয়ে ঝরে গেল, বড় বড় গাছগুলো কঙ্কালের মতো হাত বাড়িয়ে রোদ শুষতে লাগল। 

মহাবনে দেখা দিল ভয়াবহ অনাহার ও নিরুদক অবস্থা।
শুরুতে রুফাস এই খরাকে তুচ্ছ মনে করেছিল। সে ভেবেছিল, "খাবার কমলে কী হবে? আমরা শক্তিশালী, আমরা আগে খাব। দুর্বলরা মরুক বা পালিয়ে যাক, তাতে আমাদের কী?"
কিন্তু রুফাস বুঝতে পারেনি, বাস্তুতন্ত্রের প্রগতির মূল চালিকাশক্তি ছিল ওই তথাকথিত ‘দুর্বল’ প্রাণীরাই। হরিণ, বুনো শুশুক, খরগোশ আর পাখিরাই ছিল বনের প্রাণ। জল আর খাবারের অভাবে ছোট ছোট প্রাণীগুলো একের পর এক মারা যেতে লাগল। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে বহু দূরের ভেজা উপত্যকার দিকে পরিযয়ান করল। 

কয়েক মাসের মধ্যে মহাবন নিঃশব্দ, নিঝুম হয়ে গেল। কোনো হরিণের পায়ের শব্দ নেই, কোনো পাখির গান নেই।
এবার বিপদ নেমে এল ধূসর সিংহাসনে।
মাংসাশী সিংহদের শিকার করার মতো কোনো প্রাণী আর অবশিষ্ট রইল না। রুফাসের অনুসারীরা অনাহারে ছটফট করতে লাগল। যে বিশাল গায়ের জোর আর সুতীক্ষ্ণ নখ দিয়ে তারা দুর্বলদের ভয় দেখাত, সেই জোরই অনাহারে দিনে দিনে মিলাতে শুরু করল। শরীর থেকে মাংস উধাও হয়ে হাড় ফুটে উঠল, চোখগুলো ঢুকে গেল কোটরে। 

রুফাসের শক্তিশালী দলটি খাদ্যের অভাবে নিজেদের মধ্যেই মারামারি শুরু করল। দুর্বল হয়ে পড়া সিংহদের শক্তিশালী সিংহরা আক্রমণ করতে লাগল। যে হিংস্রতার বীজ তারা রোপণ করেছিল, তা এখন তাদের নিজেদেরই গ্রাস করতে শুরু করেছে। কিছুদিন পর, রুফাস ছাড়া তার রাজকীয় দলের প্রায় সকলেই অনাহারে ও নিজেদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মারা গেল। 

চার: নিয়তির বিচার

এক অমাবস্যার রাতে পুরো বন যখন এক থমথমে অন্ধকারে ডুবে ছিল, ধূসর সিংহাসনের চূড়ায় একা বসে ছিল রুফাস।
একসময় যার গর্জনে পুরো বন কাঁপত, সেই রুফাসের শরীর এখন এক জীর্ণ কঙ্কাল মাত্র। রাজকীয় কেশর ধুলোয় ধূসরিত, পা দুটো থরথর করে কাঁপছে। এক পা হাঁটার ক্ষমতাও তার শরীরে নেই। জিভ শুকিয়ে কাঠের মতো হয়ে গেছে, আর পেটের ভেতর জ্বলছে তীব্র অনাহারের আগুন।
হঠাৎ রুফাস খেয়াল করল, অন্ধকারের ভেতর থেকে অনেকগুলো জোড়া জোড়া চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। 

টিলার নিচে এসে জমা হয়েছে শত শত ছোট ছোট প্রাণী। যারা বেঁচে ছিল—সেই কায়া, বুনো শুশুক, বানর, প্রবীণ পেঁচা সিরু এবং বনের অবশিষ্ট পশুপাখিরা। তারা কোনো শব্দ না করে একদম শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
রুফাস নিজের সমস্ত অবশিষ্টাংশ শক্তি দিয়ে শেষবারের মতো এক মহাগর্জন করতে চাইল, যাতে ওই দুর্বল প্রাণীরা আবার ভয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু তার শুষ্ক গলা দিয়ে গর্জন বের হলো না—বেরিয়ে এল কেবল এক করুণ, হাঁপানির মতো বাতাসের শব্দ।
রুফাস নিচের দিকে তাকাল। সে আশা করেছিল কায়া বা সিরুর চোখে প্রতিশোধের আগুন থাকবে, নয়তো ভয় থাকবে। কিন্তু সে দেখল ওদের চোখে কোনো ভয় নেই, কোনো হিংসাও নেই। সেখানে রয়েছে কেবল এক গভীর করুণা আর প্রকৃতির চূড়ান্ত সত্যের নিরব সাক্ষী হয়ে থাকার অভিজ্ঞতা।
সিরু ডানা মেলে উড়ে এসে রুফাসের সামনের এক শুকনো ডালে গিয়ে বসল। 

রুফাস হাঁপাতে হাঁপাতে অতি কষ্টে বলল, "তোমরা... তোমরা কি আমাকে আক্রমণ করতে এসেছ? আমি এখনো বনের রাজা... আমি শক্তিশালী..."
সিরু মাথা নেড়ে শান্ত কণ্ঠে বলল, "না রুফাস। তোমাকে মারার জন্য আমাদের কোনো নখ বা দাঁতের প্রয়োজন নেই। প্রকৃতি নিজেই সেই কাজ করে দিয়েছে। তুমি যাকে ক্ষমতা মনে করতে, তা ছিল আসলে এক অন্ধ মোহ।" 

সিরু একটু থেমে আবার বলতে শুরু করল, "তুমি ভেবেছিলে দুর্বলকে দমিয়ে রাখাটাই ক্ষমতার চরম বহিঃপ্রকাশ। তুমি ভুলে গিয়েছিলে, এই মহাবনে একটা ক্ষুদ্র পিঁপড়ে থেকে শুরু করে বিশাল সিংহ—সবাই একই প্রগতির সুতোয় বাঁধা। তুমি যাদের ওপর অত্যাচার করেছ, যাদের অনাবশ্যক হত্যা করেছ, তোমার অস্তিত্ব তাদের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল। দুর্বলকে মুছে ফেলে সবল কখনো একা বেঁচে থাকতে পারে না।" 

রুফাস চোখ বুজে মাটিতে মাথা গড়িয়ে দিল। তার অহংকারী মস্তিষ্কে আজ প্রথমবার অনুশোচনার আলো জ্বলে উঠল, কিন্তু বড্ড দেরিতে।
সিরু শেষবারের মতো বলল, "নিয়তির নিয়ম হলো—যে শক্তি প্রকৃতির প্রগতি আর ভালোবাসার বিরুদ্ধে গিয়ে কেবল দমনপীড়নে ব্যবহৃত হয়, সেই শক্তি এক দিন নিজ বোঝার ভারেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। প্রকৃতির কাছে আমরা কেউ সবল নই, কেউ চিরকাল দুর্বলও নই। নিয়তির দাঁড়িপাল্লায় সকলেই সমান।"

পাঁচ: নতুন ভোর

পরদিন সকালে যখন আকাশের কোণ ভেঙে প্রথম সূর্যরশ্মি ফুটে উঠল, তখন ধূসর সিংহাসনের ওপর বিষাদের ছায়া কেটে গেছে। বাতাসে নেমে এসেছে এক ঠাণ্ডা পরশ। দূর দিগন্তে দেখা গেল কালচে মেঘের ঘনঘটা। 

বহু মাস পর মহাবনে ঝমঝম করে নামল বৃষ্টি। তপ্ত মাটি থেকে উঠে এল সোঁদা গন্ধ। ধুয়ে মুছে যেতে লাগল বহুদিনের ধুলো আর রক্তের দাগ।
কিন্তু ধূসর সিংহাসনের চূড়ায় রুফাসের বিশাল নিথর শরীরটি একাকী পড়ে রইল। কোনো রাজা নয়, কোনো অত্যাচারী নয়—কেবল এক পরাজিত অহংকারের কঙ্কাল হিসেবে সে রয়ে গেল প্রকৃতির পলিমাটির নিচে। 

বৃষ্টির জলে ভিজে মাটি ফুঁড়ে বের হতে লাগল কচি সবুজ ঘাস। দূরের উপত্যকা থেকে আবার ফিরে আসতে শুরু করল হরিণের দল, পাখিরা আবার ডালপালায় এসে বাঁধতে লাগল নতুন বাসা। নদী আবার ভরে উঠল কলকল শব্দে।
বনের ছোট ছোট প্রাণীরা সেদিন এক চিরন্তন শিক্ষা বুক দিয়ে আগলে নিল—দমনপীড়ন কখনোই কোনো সমাজ বা বনের চিরস্থায়ী ধর্ম হতে পারে না। সবল যদি দুর্বলকে প্রগতির সঙ্গী না করে তাকে দমিত করতে চায়, তবে সেই পতনের আগুনে দমিতের চেয়ে দমনকারীর ধ্বংসই নিশ্চিত হয়। কারণ নিয়তির চোখে ক্ষমতা কোনো গায়ের জোরে মাপা হয় না, তা মাপা হয় প্রকৃতির সাথে মিশে থাকার গভীরতায়। 

                                                                                                               লেখক - আলিম বাবু

No comments:

Post a Comment