বাংলা গল্পসল্প

"BanglaGolpoSolpo" is all about Bengali stories, Bengali Poems, Articles etc. 'বাংলা গল্পসল্প'র তরফ থেকে সকল পাঠকগণ, শ্রোতাগণ ও লেখকবন্ধুদের জানাই হার্দিক অভিনন্দন, ভালোবাসা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা। এই অনলাইন পাবলিশিং ওয়েবসাইটটির অনবদ্য প্রচেষ্টা স্বরূপ বিভিন্ন ধরনের বাংলা সাহিত্যের উন্মোচনের মাধ্যমে বাংলা জগতের গর্বিত বাঙালীর সন্নিকটে নবাগত তরুণ প্রজন্মের সাহিত্যিকগণের আত্মপ্রকাশ করার নিতান্তই একটি প্রয়াসমাত্র ।

Powered By Blogger

Wikipedia

Search results

Pageviews

নিচের FOLLOW BUTTON টির দ্বারা আপনি ওয়েবসাইটটি FOLLOW করতে পারেন।

Monday, 10 August 2026

বাঁশঝুড়ির হুড়োবাঘ / 'বাংলা গল্পসল্প' নিবেদিত একখানা ছোট্ট রোমাঞ্চকর হাসির গল্প ।

বাঁশঝুড়ির হুড়োবাঘ

গ্রামের নাম বাঁশঝুড়ি। গ্রামের মানুষের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—কোথাও একটা ছুঁচ পড়লে এরা ভেবে বসে পুরো আকাশটাই ভেঙে মাথায় পড়েছে! আর যদি একটা সামান্য বাঁশপাতা মড়মড় করে ওঠে, তবে গদাধর পুরুত এখনই পাঁজি খুলে শনি আর রাহুর দশা কাটানোর জপ শুরু করে দেবেন। গ্রামের মাতব্বর পঞ্চানন মোড়ল মশাই আবার মনে মনে বিশ্বাস করেন, তিনি ছাড়া এই গ্রামে বুদ্ধির জোয়ার আনার লোক দ্বিতীয়টি নেই।
সেই বাঁশঝুড়ি গ্রামে এক ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে যে তুলকালাম কাণ্ডটা ঘটল, তা গ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে (কিংবা ঘোর অপমানের অক্ষরে) লেখা থাকবে।
ঘটনার সূত্রপাত হাবুল প্রামাণিককে দিয়ে। হাবুল সকাল-সকাল মাঠের ধার থেকে ছাগলের জন্য পাতা কেটে ফিরছিল। কুয়াশার ভেতর একটা বড় ঝোপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ তার মনে হলো ঝোপটা নড়ে উঠল। হাবুল দাঁড়াল। ঝোপের ভেতরের অন্ধকার থেকে দুটো জ্বলজ্বলে হলুদ চোখ তার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছে! আর তারপরই ভেসে এল এক গভীর, খসখসে, রুদ্ধশ্বাস গর্জন—"হ্যাঁআআঅঅঅ..."
হাবুল আর দ্বিতীয়বার ভাবেনি। হাতের কাস্তে, ঘাসের বোঝা আর কাঁচা ধুতি—সব ওখানেই বিসর্জন দিয়ে, সটান এক এক লাফ দিয়ে সোজা গিয়ে উঠল মোড়ল মশাইয়ের চণ্ডীমণ্ডপের ওপর!
তখন চণ্ডীমণ্ডপে বেশ একটা রাজকীয় আসর বসেছে। পঞ্চানন মোড়ল মশাই সশব্দে তামাক টানছেন, পাশে বসে পঞ্চায়েতের সদস্য রামলোচন দা দিয়ে সুপুরি কাটছেন, গাঁয়ের একমাত্র ডিগ্রিধারী বেকার যুবক গোবিন্দ চশমা মুছছে, আর গদাধর পুরুত পঞ্জিকা দেখে কার কবে ফাড়া আছে তার হিসেব কষছেন।
হাবুল ধপাস করে চণ্ডীমণ্ডপের মেঝেতে আছাড় খেয়ে পড়ল। হাঁপাতে হাঁপাতে চেঁচিয়ে উঠল, "গেল! সব শেষ হয়ে গেল মোড়ল মশাই! আমায় বাঁচান! গ্রামকে বাঁচান! বাঘ এসেছে!"
মোড়ল মশাই তামাকের ফুঁ বন্ধ করে চোখ কপালে তুললেন, "বলিস কী রে হাবুল! বাঁশঝুড়ির জঙ্গলে শেষ বাঘ দেখা গিয়েছিল আমার ঠাকুরদার বিয়ের রাতে! তুই নিশ্চিত তো?"
"নইলে কি আমি ধুতি ফেলে পালাই মোড়ল মশাই?" হাবুল বুকে হাত দিয়ে রুদ্ধশ্বাসে বলল, "বিশাল একখানা মেছো বাঘ... না না, সাক্ষাৎ হুড়ো বাঘ! ঝোপের ভেতর জাঁতকলের মতো চোখ দুটো জ্বালিয়ে হাঁ করে বসে আছে। কী তার গায়ের ডোরাকাটা ছাপ! আর কী বিষম গর্জন! আমার দিকে লাফ দিতেই আমি বাঘের মুখে ছাই ছিটিয়ে কোনোমতে প্রাণ নিয়ে একছুটে পালালাম!"
কথাটা শোনামাত্রই গদাধর পুরুত হাত থেকে জপের মালা ফেলে দিয়ে এক লাফে চণ্ডীমণ্ডপের সবচেয়ে উঁচু খুঁটিটা জড়িয়ে ধরলেন, "ওরে বাপরে! হুড়ো বাঘ মানে তো সাক্ষাৎ যমদূত! বলি, বাঘটা কি গ্রামের উত্তর-পূর্ব দিকে মুখ করে বসে ছিল? আজকে যে কালবেলা চলছে! রাহুর গ্রাসে গোটা গ্রাম ছারখার হয়ে যাবে রে!"
গোবিন্দ চশমাটা নাকের ওপর ঠিকঠাক বসিয়ে বিজ্ঞের মতো বলল, "দাঁড়ান দাঁড়ান! আপনারা অযথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন কেন? হাবুলকাকু, ভালো করে ভেবে বলো তো—কুয়াশার মধ্যে নিশ্চিত কোনো জংলি বেড়াল দেখেছো। এত লোকালয়ে হুড়ো বাঘ কোত্থেকে আসবে?"
মোড়ল মশাই গোবিন্দকে এক ধমক দিলেন, "তুই একদম চুপ কর গোবিন্দ! তোর ওই শহর থেকে শেখা কেতাবী বিদ্যে দিয়ে কি আর বাঘের পেট ভরবে? বাঘ যখন তোকে কামড়াতে আসবে, তখন বলবি যে বইতে লেখা আছে বাঘ মানুষ খায় না? ওরে কে আছিস, কাঁসি বাজা! ঢোলক বাজা! গাঁয়ের সবাইকে লাঠি-সোটা নিয়ে চণ্ডীমণ্ডপে জড়ো হতে বল!"
পরের আধ ঘণ্টার মধ্যে বাঁশঝুড়ি গ্রামের দৃশ্যটা দেখার মতো হলো।
ঢোলের ক্যাঁচকোঁচ আওয়াজে পুরো গ্রাম যেন একসঙ্গে কেঁপে উঠল। গৃহস্থের বউরা ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে আড়ালে গিয়ে কাঁপতে লাগল। আর গাঁয়ের যত পুরুষমানুষ, তারা লাঠি, কঞ্চি, কোদাল, কুলো, এমনকি রান্নার কড়াই আর ঝাঁটা নিয়ে চণ্ডীমণ্ডপের সামনে এসে হাজির হলো।
রামলোচন এসেছে প্রকাণ্ড একখানা দা নিয়ে, কিন্তু আতঙ্কে তার হাত এত কাঁপছে যে সেই দায়ের ঠকঠক শব্দে চারপাশের কঞ্চি-হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ছোকরাদের দাঁত ঠকঠক করতে শুরু করেছে। হাবুল একটা পুরোনো জং-ধরা ভাঙা সোঁতা হাতে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় চেঁচাচ্ছে, "আমি আগে থাকব না! বাঘ আমার সুবাস পেয়ে গেছে!"
মোড়ল মশাই বুক ফুলিয়ে গলার জোর বাড়িয়ে ঘোষণা করলেন, "শোনো গ্রামবাসী! বাঁশঝুড়ির ইতিহাসে আজ এক মহানির্ণায়ক দিন। তবে পঞ্চানন মোড়ল বেঁচে থাকতে তোদের গায়ে বাঘের একটা আঁচড়ও লাগতে দেব না। আমি সেনাপতির মতো পেছন থেকে পুরো অপারেশনের পরিচালনা করব! গোবিন্দ আর হাবুল আগে আগে মশাল নিয়ে চল, আর গদাধর পুরুত তুই মহামৃত্যুঞ্জয় জপ করতে করতে আমাদের পেছনে পেছনে থাকবি!"
গদাধর পুরুত ভয়ে ধুতি সামলাতে সামলাতে বললেন, "আমার পেছনে যদি বাঘ আসে মোড়ল? আমি কি মন্তর পড়ে বাঘকে নিরামিষাশী বানিয়ে দেব?"
অবশেষে শুরু হলো সেই ঐতিহাসিক 'বাঘ শিকার অভিযান'।
সামনে মশাল হাতে গোবিন্দ আর থরথর করে কাঁপা হাবুল। পেছনে লাঠি, হাঁড়ি, কড়াই হাতে বিশাল গ্রামবাসীবাহিনী। আর সবার শেষে হাতজোড় করে মন্ত্র জপতে জপতে গদাধর পুরুত। পুরো দলটা একদম পা টিপে টিপে মাঠের ধারের সেই ঝোপের দিকে এগোতে লাগল।
ঝোপের কাছাকাছি পৌঁছাতেই হাবুল হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে তীক্ষ্ণ গলায় চিৎকার করে উঠল, "ওই... ওই দেখুন! ঝোপের ভেতর নড়ছে! সেই বাঘটা!"
সত্যিই, কুয়াশা আর সকালের আবছা আলোয় দেখা গেল ঝোপের আড়ালে ধূসর আর কালো ডোরাকাটা বিশাল কিছু একটা যেন গুঁড়ি মেরে বসে আছে। তার চোখ দুটো যেন আগুনের পিন্ডের মতো জ্বলছে।
দৃশ্যটা দেখেই গদাধর পুরুত মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন। তিনি আর কোনো পথ না পেয়ে সোজা একটা কুল গাছের ডালে বানরের মতো তরতর করে উঠে গেলেন। কিন্তু বাঁধ সাধল তাঁর ঝুলন্ত ধুতি! ধুতির এক কোণা আটকে গেল নিচের একটা ভাঙা ডালে, আর পুরুত মশাই মহাশূন্যে বাঁদুড়ের মতো ঝুলতে ঝুলতে জপ করতে লাগলেন, "ওঁ জটাঝুট সমাযুক্তং... ওরে বাঘ বাবা, আমায় খাসনে! আমার মাংসে বড় অরুচি, হাড় ছাড়া কিছু পাবি না!"
এদিকে বাঁশঝুড়ির বীর রামলোচন ভয়ে হাতের দা-খানা ফেলে দিয়ে মোড়ল মশাইয়ের ঘাড়ে গিয়ে আছাড় খেলেন। মোড়ল মশাই রামলোচনকে সামলাতে না পেরে পেছনের গোবরের গাদায় ধপাস!
সেই শব্দে পেছনের গ্রামবাসীদের ধারণা হলো—বাঘ বুঝি আক্রমণ করে দিল!
ব্যস! শুরু হলো মহাবিশৃঙ্খলা!
কেউ না দেখেই লাঠি ঘুরিয়ে পাশের লোকের মাথায় মারল, কেউ ঝাঁটা উঁচিয়ে নিজের ভাইয়ের পিঠে ঠুকে দিল। দুজন তো ভয়ে দৌড়াতে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে মাথা ঠোকাঠুকি করে মাটিতে শুয়ে 'বাঘে খেল রে' বলে চেঁচাতে শুরু করল! বাঁশঝুড়ির সেই মাঠ তখন এক রণক্ষেত্র, অথচ বাঘ কিন্তু তখনও ঝোপের বাইরে আসেইনি!
গোবিন্দ পুরো ব্যাপারটা দেখে আর মাথা ঠিক রাখতে পারল না। সে হাতের মশালটা একটু উঁচু করে ধরে শক্ত হয়ে সামনে এগিয়ে গেল।
"ওরে গোবিন্দ এগোস নে!" মোড়ল গোবরের গাদা থেকে মাথা তুলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন, "তোর কিছু হলে তোর বাপ আমায় যে জ্যান্ত কবর দেবে রে!"
কিন্তু গোবিন্দ কারও কথা শুনল না। সে ঝোপের একদম এক মিটারের মধ্যে গিয়ে মশালের আলোটা ফেলল। আর সঙ্গে সঙ্গে পুরো রহস্য উন্মোচিত হয়ে গেল!
ঝোপের ভেতর থেকে সেই ভয়াল, রক্তপিপাসু 'হুড়ো বাঘ'টি গুটিগুটি পায়ে, অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে বাইরে বেরিয়ে এল।
সেটি আসলে কোনো বাঘ, চিতাবাঘ বা মেছো বাঘ তো নয়ই—সেটি হলো গ্রামের রাখালদের কুচকুচে কালো আর ছাই রঙের ডোরাকাটা শান্ত একটা পোষা বিড়াল!
হয়েছে কী, বিড়ালটা রাতে ছাইয়ের গাদায় গোল হয়ে শুয়ে থাকায় তার গায়ে বেশ খানিকটা ছাই জমে ফুলকো আর বিরাট দেখাচ্ছিল। আর ভোরে বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে তার গায়ের পশম একদম খাড়া খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল, যার ফলে আবছা আলোয় তাকে দ্বিগুণ আকারের মনে হচ্ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, মাছের পেটি চুরি করে খেতে গিয়ে তার গলায় ছোট্ট একটা মাছের কাঁটা ফুটেছিল। সেই কাঁটার যন্ত্রণাতেই সে বেচারা খসখসে গলায় কুঁকড়ে কুঁকড়ে কাঁদছিল, যেটাকে হাবুল প্রামাণিক মনে করেছিল বাঘের গর্জন!
বিড়ালটা ঝোপের বাইরে এসে সবার দিকে একবার গোল গোল চোখে তাকাল। তারপর এত বড় সশস্ত্র বাহিনীকে সামনে দেখে নিতান্ত করুণ গলায় ডেকে উঠল—"মিঞাঁআআও..."
পুরো মাঠে এক মুহূর্তের জন্য এমন নীরবতা নেমে এল, যেন পৃথিবীর সব শব্দ হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেছে!
কুলগাছে ঝুলন্ত গদাধর পুরুতের হাত থেকে পঞ্জিকাটা ঝুপ করে নিচে পড়ল। গোবরের গাদা থেকে উঠে দাঁড়ানো মোড়ল মশাই চোখ কপালে তুলে হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন। আর হাবুল হাতের সোঁতা ফেলে দিয়ে বিড়ালটার দিকে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চেয়ে রইল।
গোবিন্দ বিড়ালটাকে আলতো করে কোলে তুলে নিয়ে গলা থেকে আলতো একটা চাপে কাঁটাটা বের করে দিল। বিড়ালটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে গোবিন্দর বুকের কাছে মুখ ঘষতে লাগল।
গোবিন্দ হো হো করে হেসে উঠে বলল, "মোড়ল মশাই! আপনাদের রক্তচক্ষু হুড়ো বাঘ তো এখন একটু দুধ আর ভাতের জন্য কান্নাকাটি করছে! এর জন্যই কি পুরো গ্রাম লাঠি-সোটা আর কড়াই নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল?"
এর পরের দৃশ্যটা বর্ণনা করার ভাষা কোনো অভিধানে নেই!
প্রথমে হাঁড়ি-কড়াই হাতে দাঁড়িয়ে থাকা রামলোচন একটা ফিক করে হেসে ফেলল। তারপরই পুরো মাঠ জুড়ে ফেটে পড়ল এক বিরাআআআাট হাসির হররা! গ্রামবাসীরা হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াঘড়ি খেতে লাগল।
কুলগাছ থেকে গদাধর পুরুত ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামতে গিয়ে ধুতি সামলাতে না পেরে ধপাস করে এসে পড়লেন পেছনের পাতা গাদার ওপর। তাঁর মুখে তখনও 'ওঁ জটাঝুট' মন্ত্রের আধো-আধো বুলি! তাই দেখে ছোকরার দল হেসে কুতোপুতু।
মোড়ল মশাই গোবরের গাদা মুছে কাদা-প্যাচপ্যাচে মুখে হাবুলের দিকে তেড়ে গেলেন, "তোর বলি এই বাঘ? এই একটা একরত্তি বিড়ালকে দেখে তুই পুরো গ্রাম মাথায় তুলিছিস? আমার নতুন ধুতিটা গোবরে মাখালি, মোড়লগিরির মান-সম্মান সব জলে দিলি!"
হাবুল বোকার মতো নিজের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলল, "না মানে মোড়ল মশাই... কুয়াশায় আর একটু ভয় পেয়েছিলাম তো... ভেবেছিলাম বুঝি..."
"থাম তোর ভয়ের নিকুচি করেছে!" মোড়ল মশাই খেঁকিয়ে উঠলেন, কিন্তু ততক্ষণে তাঁর নিজের মুখ থেকেও হাসির তোড় সামলানো যাচ্ছে না। তিনিও নিজের ওপর রাগ ধরে রাখতে না পেরে হো হো করে হেসে ফেললেন।
গোবিন্দ বিড়ালটাকে কোলে নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে ডালিম গাছের মতো হেসে বলল, "একেবারে প্রবাদবাক্যের সেই অমর শিক্ষা হাবুলকাকু—'রজ্জুতে সর্প ভ্রম'! মানে দড়ি দেখে সাপ ভেবে আঁতকে ওঠা! আসল বাঘ তো ছিল না, বাঘ তৈরি হয়েছিল আপনাদের মনের ভীতিতে। ভয় যখন চোখে চশমা পরায়, তখন ছাই গাদার পুঁচকে বিড়ালকেও বনের হুড়ো বাঘ বলে মনে হয়!"
পুরো বাঁশঝুড়ি গ্রাম সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসিতে থৈ থৈ করেছিল। মোড়ল মশাইয়ের গোবরমাখা মুখ, পুরুত মশাইয়ের গাছে বাঁদুড়-ঝুলন আর হাবুলের বীরত্বের গল্প নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল।
আর সেই ছোট্ট 'হুড়ো বাঘ'টি? সে গোবিন্দর কোলে পরম শান্তিতে ছানাপোনাদের মতো চোখ বুজে 'পুর পুর' করে শব্দ করছিল, যেন সে মনে মনে বাঁশঝুড়ির পুরো মান্যগণ্য মানুষদের বোকামি দেখে বেশ আনন্দই পাচ্ছিল! 

                                                                                                            লেখক - আলিম বাবু

No comments:

Post a Comment